সাব্বির কামাল, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
গ্রীষ্মের খরতাপে একটু শান্তি,স্বস্তি, তৃষ্ণা মেটানোর জন্য তালের শাঁসের ঝুরি মেলা ভার।
কাঁচা তাল গ্রীষ্ম কালীন একটি রসালো ফল যা খুবই জনপ্রিয় ও সুস্বাদু , শহর -বন্দর, গ্রামে- গঞ্জে, পথে-ঘাটে রাস্তার পাশে তালের শাঁস বিক্রি করতে দেখা যায়।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরের জামতলা মোড়ে প্রতিদিন রাওনা ইউনিয়নের খাওরা বড়াইল গ্রামের আনসারুল কচি তালশাঁস বিক্রি করে। গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে তাল সংগ্রহ করে মোড়ের পাশে বসে তৃষ্ণার্ত মানুষের কাছে দা দিয়ে কেটে কেটে তালের শাঁস তুলে বিক্রি করছে।
আনসারুল বলেন এই গরমে তাল শাঁসের ব্যাপক চাহিদা,আমরা প্রতি পিস তাল ১৫থেকে ২০ টাকা বিক্রি করি এতে আমার দৈনিক ১হাজার থেকে ১২শ টাকা লাভ হয়। আমাদের আট জন্যের সংসার এই আয় দিয়েই চলে।
আনসারুল আরাে বলেন, প্রতি বছর গ্রীষ্মের এই সময় আমরা তালে শাঁস ভ্যানে করে,বিভিন্ন জায়গায় বসে বিক্রি করে থাকি। অনেক বড় বড় লোকজন তালের শাঁস খায় এবং বাসার জন্য ব্যাগে ভরে নিয়ে যায়। কচি তালের শাঁস খেয়ে মানুষ জন এই গরমে বেশ তৃপ্তি পায়,এটা দেখে আমরাও খুশি।
আম, জাম,কাঠাল,লিচুর পাশাপাশি আমাদের দেশেও ফলের মধ্যে কাঁচা তাল বাংলার সাধারণ মানুষের মাঝে সমান জনপ্রিয়। এশিয়ার অঞ্চলে কচি তালের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ করা যায়।
তালের শাঁস পুষ্টি গণ সমৃদ্ধ রসালো একটি ফল। যা সাধারণত রাস্তার ধারে, পুকুর পাড়ে, বিলের ধারে বেশ উঁচু গাছে জন্মায়। তাল গাছের কাঁঠ ও বেশ জনপ্রিয়। গ্রামের ঘর দরজা তৈরিতে তাল গাছের কাঁঠ ব্যবহার করা হয়। পাকা তাল মানুষ খেয়ে থাকে।
এই গরমে স্বস্তি পেতে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে কয়েকজন কলেজ শিক্ষার্থী তালশাঁস কিনে খাচ্ছেন। তারা জানাল,গরমে শরীর ঠান্ডা করতে প্রায়ই বন্ধুরা মিলে তালশাঁস কিনে খায়।
রাস্তার উপর থেকে তালশাঁস কিনতে আসা
মাদ্রাসা শিক্ষক নাজমুল হক বলেন,’এই গরমে তালশাঁস ছোটবড় সবার পছন্দ। এজন্য পরিবারের সদস্যদের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
কচি তালের পুষ্টি গুণ সম্পর্কে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জামাল উদ্দিন জানান, তাল শ্লেষানাশক মূত্র বৃদ্ধি করে, ব্যথা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর করে।
তালের শাঁস প্রাকৃতিক ভাবে দেহকে রাখে ক্লান্তি হীন। গরমের তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানি শূন্যতা দূর করে। তলের শাঁস খাবারের রুচি বাড়িয়ে দিতে সহায়ক। তালে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টি শক্তিকে উন্নত করে। তালে থাকা উপকারী উপাদান আপনার ত্বকের যত্ন নিতে সক্ষম। কচি তালের শাঁস লিভারের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। তাল রক্তশূন্যতা দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে। তালে থাকা ক্যালসিয়াম হাঁড় গঠনে ভুমিকা রাখে। তালের শাঁসে থাকা এন্ট্রি এক্সিডেন্ট শরীরকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তালশাঁস বমিভাব দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
এতসব গুনে ভরা তালশাঁসের কদর সব শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সমান।
তাই গ্রীষ্মের দুপুরে একটুকরো তালের শাঁস এনে দেয় আমাদের চরম তৃপ্তি।

