সাব্বির কামাল, গফরগাঁও, (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ঘাগড়া গ্রামে কৃষকদের কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে এবং তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রদর্শন করা হয়েছে সরিষা থেকে তেল উৎপাদনের একটি আধুনিক যন্ত্র। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ‘তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় কৃষক মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে সরিষা, সূর্যমুখী তেল নিষ্কাশন যন্ত্র কৃষকদের সামনে উপস্থাপন ও ব্যবহারিকভাবে প্রদর্শন করা হয়।

এই যন্ত্রের মাধ্যমে সরিষার বীজ থেকে কয়েক মিনিটেই খাঁটি তেল বের করে আনার প্রক্রিয়া সরাসরি কৃষকদের সামনে দেখানো হয়। কৃষকদের শেখানো হয় কীভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা নিজেরাই ভেজালমুক্ত ভোজ্যতেল উৎপাদন করতে পারবেন। এতে উৎপাদন খরচ কমবে, বাজারনির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং নিজেদের পরিবারের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে।
বর্তমানে বাজারে প্রচলিত অধিকাংশ বিদেশি তেলে ট্রান্স ফ্যাট ও কেমিক্যালজাত উপাদান থাকার কারণে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, লিভার জটিলতা এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে এসব তেল ব্যবহারে। তাই সরকারি এই উদ্যোগ শুধু কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাকুরা নাম্মী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, গফরগাঁও। প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মোছাঃ নাছরিন আক্তার বানু, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ময়মনসিংহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন রহিমা খাতুন, জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার, ময়মনসিংহ এবং উপস্থিত ছিলেন মনিটরিং অফিসার খাইরুল আমিন শোয়াব।
প্রধান অতিথি ড. মোছাঃ নাছরিন আক্তার বানু বলেন, “সরিষা থেকে খাঁটি তেল উৎপাদন কৃষকের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেলে শুধু তাদের আয় নয়, তাদের সচেতনতাও বাড়বে। কৃষি প্রযুক্তির এমন ব্যবহার দেশের খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকুরা নাম্মী বলেন, “বিদেশি তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেরাই উৎপাদক হয়ে উঠলে কৃষকরা লাভবান হবেন। সরকার কৃষির প্রতিটি স্তরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।”
ঘাগড়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, “এই যন্ত্র সহজেই ব্যবহারযোগ্য। এর মাধ্যমে কৃষকরা নিজের উৎপাদিত সরিষা থেকে তেল তৈরি করে বাজারজাত করতে পারবেন, ফলে তাদের আয় বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও সচল হবে।”
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শতাধিক কৃষক সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং জানান, ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম নিয়মিত হলে তারা আরও বেশি আগ্রহী হয়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করবেন।

